
আমার শুধু ওদের কথা মনে হয়,
যারা ছিলো সত্যিকারের স্রষ্টা।
যারা গর্ভ থেকেই স্মরণ করেছিল আত্মার ইতিহাস
আলোর পথ ধরে, যেখানে প্রহরগুলো অন্তহীন সূর্যের গানে
স্নান করে –
যাদের ছিলো একটাই ভালবাসা, একটাই ইচ্ছা
যে ওদের ঠোঁটে থাকবে আগুনের স্পর্শ। ওরা বলবে
ওদের সুরে জড়ানো অস্তিত্বের কথা। ওরা সবাই জেগে থাকবে
মহাকালের এক বসন্তবৃক্ষের তলে। প্রকৃতির লুকোনো ইশারাগুলো
ওদের ছোঁয়া দেবে, ঝরে পড়া পাপড়ির মতো।
ওরা ছিলো আমাদের মাঝে, ওরা থাকবে,
ওদের রক্তে কাঁপতে থাকা আনন্দ শুষে নেবে অমরত্বের স্রোত
এই পৃথিবীর আগে – বহু পাথর – বহু সময়ের ভাঙাগড়া
পাড়ি দিয়ে। ওরা দ্বিধা করবে না সুন্দর আলোর সকালকে
ছুঁয়ে দিতে – ওরা মত্ত হয়ে যাবে
শেষ বিকেলে ভালবাসার আলিঙ্গনে। এই পৃথিবীর শব্দ, কুয়াশা – কষ্টের মাঝেও
ঝলসে উঠবে ওদের গান।
তূষারের কাছে, সূর্যের কাছে, ঐ উঁচু পাহাড়ের বুকে,
দেখো, ওদের নামগুলো দোলা দিয়ে যাচ্ছে সবুজ ঘাসের স্রোতে,
আর বাস্পে ভরা জাহাজের মতো সাদা মেঘের আনাগোনায়।
আকাশের কানে, বাতাসের কথায় ওদের নামের প্রতিধ্বনি,
যারা জীবনে সংগ্রাম করেছিলো জীবনের জন্য,
আর হৃদয়ে ধরে রেখেছিলো জ্বলন্ত আগুনের পিন্ড।
যারা ছিলো সূর্যের সন্তান, মুহূর্তের জন্য হেঁটেছিল সূর্যের দিকে
আর ইতিহাসের গায়ে লিখে গিয়েছিল নাম।
রচনাকালঃ ১৯৫৫
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন