ওদের জন্য –

যারা কাঁচ আর কল্পনা দিয়ে

আবিষ্কার করেছিল নক্ষত্র।

যারা বাতাসের চোখে

মেলেছিলো পাল –


- বায়রন।

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১১


নিউইয়র্কে, একটা সূর্যাস্তের নীচে -

শ্যারন ওল্ডস



বছরের সবচে লম্বা দিনের শেষটায় এসে তার আর সহ্য হোলো না –

লোহার সিঁড়িটা বেয়ে সে চলে গেলো দালানের ছাদের

আলকাতরা মাখানো নরম চাতালের ওপর খালিপায়ে

একদম কিনারায়, ঝুলে থাকা কারুকার্যের ওপর এক পা বাড়িয়ে দিলো,

আর বললো, ওরা যদি এক পা এগোয়, তাহলেই সব শেষ।

পৃথিবী নামের এই বড় যন্ত্রটা তখন লোকটার জীবন বাঁচানোর তোড়জোড় শুরু করলো,

পুলিশের দল এগিয়ে এলো, তাদের ইউনিফর্ম নীলচে – ধূসর, মেঘলা বিকেলের আকাশের মতো,

আরেকজন পরে নিলো বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট –

তার জীবন, তার পরিবারের রুটিরুজির চারধারে একটা কালো বর্ম,

আরেকজন, শরীরের আড়াআড়িতে একটা দড়ি বেঁধে

পাশের দালানের ছাদ থেকে ঝুলতে ঝুলতে এগোলো সন্তর্পণে

প্রায় আত্মঘাতী লোকটার দিকে।

সবচে’ লম্বা পুলিশটা সরাসরি পা বাড়ালো,

নরম, নীচুস্বরে আস্তে আস্তে কথা বলতে বলতে

লোকটার পা তখনো অনন্ত পরকালের ঠোঁটের ওপর ঝুলে আছে

নীচের রাস্তায় দর্শনার্থীরা স্তম্ভিত উৎকণ্ঠিত নিস্তব্ধ

দমকলকর্মীরা বেছালো ছোট ছোট চতুষ্কোণে ভরা জাল

যেন প্রসবের পর নবজাতককে ধরবার আয়োজন,

সবাই এগিয়ে এলো একটু একটু করে

লোকটার দুধেল শার্ট ধবধবে জ্বলজ্বলে, যেন

কোনো অন্ধকার ল্যাবরেটরিতে একটা থালার ওপর দপদপিয়ে ওঠা রহস্যময় কিছু,

আর তখনই সবকিছু গেল থেমে –

লোকটার শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠলো – পা নেমে এলো একধাপ নীচে

তারা আরও কাছে সরে এলো, আমি মনে করলাম

এবার লোকটা মার খাবে বোধহয়, একটা হারানো বাচ্চা যেমন চড় – থাপ্পড় খায়

যখন ফিরে যায় মায়ের কাছে, ওরা লোকটাকে

হাত ধরে টেনে নিয়ে চিমনির দেয়ালের সাথে ধরলো চেপে

লম্বা পুলিশটা একটা সিগারেট ধরিয়ে

লোকটার হাঁসফাঁস করা ঠোঁটে গুঁজে দিলো, এবং

তারা সবাই সিগারেট ধরালো তারপর

জ্বলতে থাকা ছোট ছোট কাঠকয়লার মতো ধিইয়ে উঠলো লাল আগুনগুলো

সভ্যতার শুরুতে যেভাবে আমরা আগুন জ্বেলে বসে থাকতাম –

সেভাবে।


রচনাকাল ১৯৮৭




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন